‘বিচার চাই না’ এর চেয়ে দুঃখজনক আর কিছু নেই

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ‘বিচার চাই না’ এমন কথা দীপনের বাবা আবেগ ও বাস্তবতার নিরিখে বলেছেন। আর যেন তাঁকে বা অন্য কাউকে এমন কথা বলতে না হয় সে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত জাগৃতি প্রকাশনীর প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপনের বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের কষ্টের অনুভূতির প্রতি সমর্থন জানিয়ে এমন মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী। শুধু তা-ই নয়, আইনমন্ত্রী নিজের অনুভূতি তুলে ধরে বলেন, ‘এর চেয়ে আমার কাছে দুঃখজনক কিছু নেই যে তিনি আবেগ ও বাস্তবতার নিরিখে এ কথা বলেছেন।’

গতকাল সোমবার সচিবালয়ে আইনমন্ত্রী তাঁর নিজ দপ্তরে দীপনের বাবা এবং তাঁর নিজের অনুভূতি তুলে ধরেন সাংবাদিকদের সামনে। তিনি বলেন, ‘একজন ভিকটিমের পিতা, তাঁর ছেলেকে হত্যা করেছে, আর তিনি বিচার চান না। তাঁর আবেগ ও বাস্তবতার নিরিখে যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেই বক্তব্য যেন আর পরবর্তীতে তিনি বা অন্য কেউ না দেন সে অবস্থার সৃষ্টি করতে হবে। তার মানে হচ্ছে, আমার দায়িত্ব হচ্ছে প্রসিকিউশনকে বলা। তদন্ত তদন্তকারী সংস্থার কাজ। এখানে আদালতের কিছু করার নেই।’

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা জানেন এখন পর্যন্ত একই ধরনের একটি মামলা ছাড়া (ব্লগার রাজীব হত্যা মামলা) সব মামলাই তদন্তাধীন। সেই একটি মামলা চলছে, আমি প্রসিকিউশনকে নির্দেশ দিয়েছি, আগামী ৮ নভেম্বর থেকে প্রত্যেক দিন (প্রত্যেক কার্যদিবস) এটা চলবে। প্রসিকিউশন থেকে আমরা চেষ্টা করব, এ মাসের মধ্যে যেন এই ট্রায়ালটা শেষ হয়।’

গত শনিবার রাজধানীর শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটে জাগৃতির কার্যালয়ে প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। পরে কার্যালয়টিতে বাইরে থেকে তালা দিয়ে পালিয়ে যায় খুনিরা। সন্ধ্যায় তালা খুলে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা দীপনকে মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহ দেখতে এসে দীপনের বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি বিচার চাই না, সবার শুভবুদ্ধির উদয় হোক।’

বঙ্গবন্ধুর খুনি মেজর নূরকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ : সচিবালয়ে দুপুরে আইনমন্ত্রী জানান, কানাডায় নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মেজর (অব.) নূরকে ফিরিয়ে আনতে নতুন করে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর পাঁচ খুনির মধ্যে নূর কানাডায় এবং রশিদ যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন।

নূরকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘কানাডার নতুন সরকারের সঙ্গে আমরা আলোচনা করব গুরুত্বের সঙ্গে।’ তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পাঁচজনের ফাঁসি হয়েছে। বাকিদের যত দিন ফিরিয়ে আনা না যাচ্ছে তত দিন পর্যন্ত চেষ্টা করা হবে। আমরা যেকোনোভাবেই হোক তাঁদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের রায় কার্যকর করব।’
সূত্র : বাংলানিউজ।